কাজী মনিরুজ্জামান মনির, শরীয়তপুর:
শরীয়তপুর জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কীর্তিনাশা, পদ্মা ও মেঘনা নদীর তীরসহ ফসলি জমির মাটি ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। গভীর রাতে জেলার বাইরে থেকে বড় বড় ট্রলারের বহর এসে সারারাত মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে মুন্সীগঞ্জ, চাঁদপুর ও নরায়ণগঞ্জের ইটভাটাগুলোতে।
নদী ভাঙনের পাশপাশি মাটি কাটার ফলে আগামী বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক ভাঙনের আশংকা করছে এলাকার মানুষ। স্থানীয় কৃষি বিভাগ মনে করছে, এভাবে আবাদি জমি বিলীন হলে অদূর ভবিষ্যতে চরম খাদ্য ঘাটতির কবলে পরবে শরীয়তপুর জেলা।
এক অনুসন্ধানে ধারণা পাওয়া গেছে, গত এক সপ্তাহে জেলার জাজিরা, গোসাইরহাট, সদর, নড়িয়া, ডামুড্যা ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কীর্তিনাশা, পদ্মা ও মেঘনা নদীর তীর থেকে শত শত বিঘা ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে নেয়া হয়েছে শরীয়তপুরের ৫০টি ইটভাটাসহ মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও চাঁদপুরের ইটভাটায়। নদী তীরসহ সাধারণ ফসলী জমি থেকে স্থানীয় পদ্ধতির ওড়া-কোদাল ব্যবহার ছাড়াও আধুনিক ভ্যাকু মেশিনের সাহায্যেও উজার করা হচ্ছে হেক্টরের পর হেক্টর আবাদি জমি। জানা গেছে, জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর, কু-েরচর, মূলনা ও জয়নগর ইউনিয়নের অন্তত ৫০টি স্থান থেকে জমির মাটি বিক্রি করা হচ্ছে ইটভাটায়। জমির মালিকানা দাবি করে অনেকে বিদ্যুতের খুঁটির চারপাশ থেকেও মাটি বিক্রি করে দিচ্ছেন। এতে সদর উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের ২০টি বিদ্যুতের খুঁটি ঝুকিতে রয়েছে। যে কোন সময় খুঁটি ভেঙে পড়ে আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। অভিযোগ অনুযায়ী, এভাবে ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রি করায় সরকারের সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন এর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাই গ্রহণ করছে না।
এলাকাবাসীর ভাষ্য থেকে জানা যায়, গোসাইরহাটের কোদালপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে রাতের অন্ধকারে চলছে মাটি কাটার মহোৎসব। এই ইউনিয়নের দক্ষিণ কোদালপুর, আনন্দবাজার, ঠা-ার বাজার এলাকা এবং কুচাইপট্টি ইউনিয়নের চর মাইজারা, জালালপুর, পাতারচরসহ মেঘনা নদীর তীরে রাত বাড়ার সঙ্গে জড়ো হতে থাকে বিশাল আকৃতির ট্রলার/জাহাজ। একেকটি জাহাজে ৪০/৫০ জন করে শ্রমিক মাটি কাটে। প্রতি জাহাজে ১০-১২ হাজার ঘন ফুট মাটি ভর্তি করে রাত ভোর হওয়ার পর চলে যায়। মাটি কাটার জাহাজগুলো আসে নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও চাঁদপুর এলাকা থেকে। প্রতিটি জাহাজে হাই ভোল্টেজের বালভ লাগিয়ে গত দুই মাস যাবত প্রতিদিন ২৫-৩০টি জাহাজ এসে এভাবে মাটি কেটে নিচ্ছে।
এ ব্যাপারে শরীয়তপুর ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বাবুল বলেন, 'ইট তৈরি করতে মাটির প্রয়োজন অবধারিত। তাই আমাদের মাটি কিনতে হয়। যে সব কৃষক মাটি বিক্রি করেন আমরা তাদের কাছ থেকেই ক্রয় করি। কারো থেকে জোর করে আনি না।' শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মনসুর রহমান বলেন, 'শরীয়তপুর নদী ভাঙা কবলিত একটি দুর্যোগপ্রবণ এলাকা। প্রতি বছর এ জেলার শত শত হেক্টর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে ফসলি জমি হ্রাস পাচ্ছে। অপরদিকে জেলার বিভিন্ন স্থানে ফসলি জমির উপর যেমন গড়ে উঠেছে অসংখ্য ইটভাটা, আবার ফসলি জমির মাটি কেটেই তৈরি করা হচ্ছে ইট। এতে আশঙ্কাজনকভাবে কমছে জেলার আবাদি জমির পরিমাণ। এর ফলে অদূর ভবিষ্যতে জেলায় ব্যাপকভাবে খাদ্য খাটতি দেখা দিতে পারে।
(Source: Sangbad) (Link:http://www.thedailysangbad.com/?view=details&type=gold&data=Leather&archiev=yes&arch_date=27-01-2013&pub_no=1307&menu_id=16&news_type_id=1&val=121581)
|