আবদুর রাজ্জাক, পটিয়া (চট্টগ্রাম) | তারিখ: ২৮-০১-২০১৩ :
তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার হাইদগাঁও গ্রামে আট শতাধিক পানবরজে পান পচে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে এলাকার সহস্রাধিক পানচাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পানবরজে গিয়ে দেখা গেছে, পান হলদে হয়ে যাচ্ছে এবং কালো গুটি গুটি দাগ পড়ে গাছ থেকে ঝরে পড়ছে বিভিন্ন বরজের পান। হাইদগাঁও বাড়িপাড়া গ্রামের পানচাষি স্বপন তালুকদার (৬০) প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাবার সঙ্গে ছোটবেলা থেকেই পান চাষ করে আসছি। প্রতিবছর শীতে সামান্য পানবরজের ক্ষতি হয়। কিন্তু এ বছরের মতো ক্ষতি অতীতে আর কখনো দেখিনি।’
পানচাষি শম্ভুনাথ (৪৫) বলেন, চলতি মাসের শুরু থেকে পানের বরজে হঠাৎ এ ধরনের ভাইরাস দেখা দেওয়ার পর বর্তমানে তার দেড় কানি জমির পানবরজ সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ দেওয়া দূরে থাক, কেউ এই পর্যন্ত দেখতেও আসেনি।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, পটিয়া উপজেলার একমাত্র হাইদগাঁও ইউনিয়নে ২৫ হেক্টর জমিতে মিষ্টি ও ঝাল পান উৎপাদন হয়ে থাকে। কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী পটিয়ায় পানবরজ রয়েছে ৮৩০টি। এতে পান চাষের সঙ্গে জড়িত আট শতাধিক কৃষক। এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ছয় হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত।
হাইদগাঁও পানচাষি সমিতির সদস্য সুধীর কান্তি দাশ (৫০) বলেন, হাইদগাঁও থেকে সপ্তাহে তিন দিন পটিয়া ছাড়াও চট্টগ্রাম, মিরসরাই, নোয়াখালী, চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে পাঁচ-ছয় ট্রাক পান বিক্রি করে চাষিরা চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা আয় করতেন। বর্তমানে পান পচে যাওয়ার কারণে তেমন কোনো পান বিক্রি হচ্ছে না।
পটিয়া কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তরুণ কুমার চৌধুরী বলেন, তীব্র ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশাসহ বরজে পটাশ সার ব্যবহার না করার কারণে ভাইরাস রোগে পানবরজ আক্রান্ত হয়ে হলদে হয়ে পচে যাচ্ছে। এতে পরিবেশবান্ধব বর্দোমিকচার ব্যবহার করলে এই রোগ কিছুটা প্রতিরোধ করা যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
(Source: Prothom alo) (Link: http://www.prothom-alo.com/detail/date/2013-01-28/news/324692 )
|